সোমবার ৪ মার্চ ২০২৪
লঙ্গিনাসের সাহিত্য-তত্ত্ব, কবিতার দোষ-গুণ
আবু আফজাল সালেহ
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৩, ৪:০৫ PM
শিল্পকে মহামহিমান্বিত এবং সুন্দরতর হওয়াকেই লঙ্গিনাস Sublime বলেছেন। এটি বাহ্যিক নয়, আত্মিক, যা সহজেই পাঠককে লেখকের কাছে নিয়ে যায়। লঙ্গিনাস সাহিত্যের সার্থকতার জন্য একমাত্র অবলম্বন হিসেবে বিবেচনা করেছেনsublime-কে। sublime-এর অর্থ দাঁড়ায়- প্রকাশের এমন উৎকর্ষ মাধ্যম যা বাগ্মীর মতো পাঠককে সম্মোহিত করে। পাঠককে লেখকের কাছে নিয়ে যায়। লঙ্গিনাসের On The sublime গ্রন্থে ৪৪টি অধ্যায়ের ১১টিতে sublime বাsublimity শিরোনাম ব্যবহার করেছেন। শিল্প-সাহিত্যের বা ইতিহাস প্রভৃতির শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের একমাত্র বাহন হল sublimity। কবিতা ও সাহিত্যে sublimity তথা উৎকর্ষতা নিয়েই আজকের ছোট আলোচনাটি।

On the sublime গ্রন্থে Longinus Sublimity-তে পাঁচটি উৎসের কথা বলেছেন। প্রথমত- মহৎ ধারণার সৃষ্টি করতে হবে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, শক্তিশালী এবং অনুপ্রেরক আবেগের উদ্দীপনা সৃষ্টি হতে হবে। এ দুইটি একটি সহজাত প্রবৃত্তি। তৃতীয় ও চতুর্থ হচ্ছে, চিন্তাশক্তি ও তার বক্তব্য। বক্তব্যে ¯পষ্টতা থাকতে হবে। এক্ষেত্রে মননশীলতা যে যত আনতে পারবে ততই কবিতা বা সাহিত্য উৎকর্ষতা পাবে। লঙ্গিনাসের ভাষায় যা Sublim। অলঙ্কার গঠনের কৃতিত্ব এক্ষেত্রে অন্যতম ভূমিকা পালন করে থাকে। অলঙ্কারের মধ্যে কল্পনা যেমন থাকবে তেমনই, শব্দচয়ন ও নির্বাচনে যে যত পারদর্শিতা দেখাতে পারবেন তিনি কবি-সাহিত্যিক হিসেবে ততই সফল হবেন। সর্বশেষ বিষয়টি হচ্ছে, এসবের উন্নয়ন বা ভাবোন্নয়ন। ‘ভাবের উন্নয়ন’ যা প্রয়োগে প্রকাশ হবে। ভাবের উন্নয়নের পাশাপাশি তার সফল প্রয়োগ সাহিত্যের অমরত্ব দেওয়ার বিষয়টি নির্ভরতা করে।

লঙ্গিনাস মনে করেন Sublime-এর সঙ্গে আবেগানুভূতি এসে যায়। তবে আবেগ আর এটি এক নয়। আবেগ যদি নিচমানের হয় তবে সাহিত্যের মানও নিম্মমানের হয়ে যায়। sublime কোনো দেশ ও জাতির নয়-সর্বকালের, সর্বজনের। সাহিত্যের মূল বিষয় হিসেবে sublimity গ্রহণের জন্য লঙ্গিনাস বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সাহিত্যে নীরসতা, মেকিত্ব, অতিশয়োক্তি চান না তিনি। পরোক্ষ উক্তি বা বক্রোক্তিকে কাব্যের শক্তিশালী দিক বলে অভিহিত করেছেন তিনি। কাব্য, জীবনের অনুকরণ বলা হয়ে থাকে। তবে শুধু জীবন উপস্থাপনকেই কাব্যের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। কাব্যকে যথাযথ কাব্য হয়ে উঠতে প্রয়োজন গভীর ধ্যান ও অলঙ্কার সহযোগে ভাষাকে নবরূপ প্রদান করা। অধিক শিক্ষাগ্রহণকারী উদ্ভাবনীশক্তির লেখককে সার্থক বলে মনে করেছেন লঙ্গিনাস। মেকি বা বেঠিক বিষয়ের উপস্থাপনাকে তিনি sublimity অর্জনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা মনে করেন। ‘সম্প্রসারণ’ তত্ত্বে ঘটনার পারস্পরিক ঐক্যবদ্ধকে তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। কাহিনীর সম্পূর্ণ বিকশিত হতে দেওয়াকে যথার্থ sublimity-র পূর্ব শর্ত বলেছেন তিনি। তুচ্ছ বিষয়কে বড় করে দেখা, আবেগপ্রধান শব্দ/বাক্য ইত্যাদিকে সাহিত্যের ঐশ্বর্যকে নষ্ট করে। নিচুদরের আবেগকে সামনে এনে কবিতা রচনা করলে কাব্য নিম্মমানের হয়। ছোট ছোট বিষয়কে ক্রিয়াশীল করার পারদর্শিতাও সাহিত্যস্রষ্টার একটি প্রধান গুণ।

রচনার মহত্ব ও ঐশ্বর্যমহিমা বা প্রভাবিত ক্ষমতা তৈরি করতে রূপকল্পনা কার্যকরী পদক্ষেপ। এটি একটি মানসিক ধারণা। আধুনিক কবিতায় রূপকল্প অন্যতম প্রধান অনুসঙ্গ। তাই, কবিতায় কল্পনার পাখা জুড়ে দিতে হবে। কল্পনা যতদূর বিস্তৃতি হবে ততদূরই কবিতার সার্থকতা। P. B. Shelly বলেন, poetry is the expressions of the imagination (A defence of poetry)। শব্দের খেলা হচ্ছে কবিতা। কবিতায় শব্দের প্রকৃত অর্থ থেকে ভিন্ন হলে কবিতার আরো মান বাড়ে। পাঠক যদি পড়ে বিভিন্ন রকম উদ্দেশ্য ভাবে সেখানেই কবিতার শ্রেষ্ঠত্ব। ভিন্ন ভিন্ন পাঠক কবিতার অর্থ যতভিন্ন অর্থ খুঁজবে ততই ভালো হবে। কবিতার এ রহস্য কবিতাকে সার্থক করে তুলবে। জুতসই শব্দ নির্বাচন, উপমা ও অলংকার নির্মাণ, রূপতত্ত্ব, রসাস্বাদন, ছন্দ প্রভৃতি কবিতার পার্থক্য তৈরি করে। এগুলোর প্রয়োগে যতটা মুন্সিয়ানা দেখানো যাবে কবিতা ততটাই ভালো ও সার্থক হবে। বাক্যের স্বাভাবিক পর¤পরা এড়িয়ে শব্দ ও ধারণার ব্যবহার অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করা হয়। সবমিলিয়ে কল্পনা ও কল্পনাশক্তির সাহায্যে রূপান্তরের মাধ্যমে কাব্যে বা শিল্পে, সাহিত্যে উৎকর্ষতা অর্জনের কথা বলেছেন লঙ্গিনাস। এ ছাড়া মনন, ভাষা, বাক্যগঠন ইত্যাদির মাধ্যমে কাব্য বা সাহিত্যে sublime হয়ে ওঠে বা sublimity অর্জনের জন্য এগুলো দরকার বলে মনে করেন তিনি। প্রকৃতিই সকল কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রক। নিয়ম-রীতির বাধ্যগতায় প্রকৃতিগত প্রতিভা নষ্ট হয় বলে মনে করা হয়। উল্লিখিত বইতে আরো বেশ কিছু বিষয়ের আলোচনা করেছেন। সেগুলো আজকের আলোচনায় আনেনি। বোড় আলোচনাগুলোর চুম্বক অংশ আলোচনার প্রয়াস করলাম।

বিশেষ ধারা বা প্যাটার্ন কবি-সাহিত্যিককে বাঁচিয়ে রাখে। কবির স্বর বা ফর্মে ভিন্নতা আনতে না পারলে টিকে থাকা সম্ভব নয়। কবির নাম বিহীন কবিতা পড়ে কবির নাম বলতে পারেন তখনই বুঝতে হবে সেই কবির স্বর-ফর্মে ভিন্নতা বা নতুনত্ব রয়েছে। সাহিত্যের অন্যান্য ধারার ক্ষেত্রেও প্রায় তাই। লঙ্গিনাসের এ সাহিত্যতত্ত্ব ভারতীয় উপমহাদের সাহিত্যের জন্য আলোকবর্তিকা এবং যথেষ্ট মিল রয়েছে। অ্যারিস্টলের পরেই লঙ্গিনাসের এ সাহিত্যতত্ত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনেকে আবার লঙ্গিনাসের সাহিত্যতত্ত্বকে উন্নততর বলে মনে করেন।

আজকালের খবর/আরইউ








সর্বশেষ সংবাদ
লাক্ষাদ্বীপে সামরিক ঘাঁটি করছে ভারত
পি কে হালদারের বান্ধবী অবন্তিকার জামিন
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
‘বন প্রকৃতি রক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে ভূমিকা রাখতে হবে’
কারাগারে হামলা চালিয়ে ৪ হাজার বন্দি ছিনিয়ে নিল দুর্বৃত্তরা!
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
ওবায়েদুল্লাহ মামুনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু
রাজধানীজুড়ে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় অভিযান, আটক ৩৫
বিজিবি সদস্যদের চেইন অব কমান্ড মেনে চলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ে দেশি কৃষিবিদ ও কৃষকদের নিয়োগের প্রস্তাব
আমি সার্বিকভাবে মেয়রকে সহযোগিতা করতে চাই: এমপি হাফিজ উদ্দীন আহম্মেদ
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft