রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪
বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই স্মার্ট বাংলাদেশ
রেজাউল করিম খোকন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুলাই, ২০২৪, ৭:৩০ PM
গোপালগঞ্জ জেলার ছোট্ট একটি গ্রাম টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম হয়েছিল ইতিহাসের এক মহানায়কের, এক কিংবদন্তির। যার জন্য আজ আমরা স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক বলে পরিচয় দিতে পারছি। পারছি সব ভয়কে জয় করে প্রাণ ভরে শ্বাস নিতে। তিনি হলেন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। টুঙ্গীপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া পরিবারের মানুষের আদর করে ডাকা খোকা, যিনি বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন চিরদিন, তা হয়তো তখন কেউ বুঝতেই পারেননি। তিনি এমন একজন মানুষ যিনি নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে দেশকে স্বাধীন করতে এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশের সার্বিক উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। স্বাধীনতার পর দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সমৃদ্ধ করতে গ্রহণ করেছিলেন নানা পরিকল্পনা। প্রশাসনিক ব্যবস্থার পুনর্গঠন, সংবিধান প্রণয়ন, এক কোটি মানুষের পুনর্বাসন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের  প্রাথমিক স্কুল পর্যন্ত বিনামূল্যে এবং মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত নামমাত্র মূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। 

মদ, জুয়া, ঘোড়দৌড়সহ সমস্ত ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড কার্যকর-ভাবে নিষিদ্ধকরণ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা, মাদরাাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন, ১১ হাজার প্রাথমিক স্কুল প্রতিষ্ঠাসহ ৪০ হাজার প্রাথমিক স্কুল সরকারীকরণ, দুঃস্থ মহিলাদের কল্যাণে নারী পুনর্বাসন সংস্থা, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন, ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মাফ, বিনামূল্যে/স্বল্পমূল্যে কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, পাকিস্তাানিদের পরিত্যক্ত ব্যাংক, বীমা ও ৫৮০টি শিল্প ইউনিটের জাতীয়করণ ও চালু করার মাধ্যমে হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। ঘোড়াশাল সার কারখানা, আশুগঞ্জ কমপ্লেক্সের প্রাথমিক কাজ ও অন্যান্য নতুন শিল্প স্থাপন, বন্ধ শিল্প-কারখানা চালুকরণসহ অন্যান্য সমস্যার মোকাবেলা করে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক অবকাঠামো তৈরি করে দেশকে ধীরে ধীরে একটি সমৃদ্ধিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রয়াস চালান তিনি।

বঙ্গবন্ধু শুধু রাজনৈতিক মুক্তিই নয়, স্বপ্ন দেখেছিলেন অর্থনীতিতে সমৃদ্ধশীল বাংলাদেশের। তিনিই প্রথম গ্রাম ও শহরের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তৈরি করেছিলেন গ্রামের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের জন্য একটি আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার রূপকল্প। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশেকে সোনার বাংলা গড়ে তুলতে ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠনে অনেক বড় অবদান রেখেছিলেন, অর্থনীতিকে সচল করতে ব্যাংকিং খাতে বঙ্গবন্ধুর সব থেকে বড় অবদান ছিল। পাকিস্তান আমলে যে সব বেসরকারি ব্যাংক ছিল মুক্তিযুদ্ধের পরে তিনি সেসব ব্যাংক ছয়টি ব্যাংকের আয়তায় নিয়ে আসেন। এ ছয়টি ব্যাংকের নাম দিয়ে তিনি সব ব্যাংক জাতীয়করণ করেন। এ ছয় ব্যাংকের নাম দেন তিনি জনতা, সোনালী, অগ্রণী, রূপালী, উত্তরা ও  পূবালী ব্যাংক। পাশাপাশি দুটি বীমা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন। একটি সাধারণ বীমা ও অপরটি জীবন বীমা। তার এই পদক্ষেপের ফলে দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাত অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল। বলা যায় বঙ্গবন্ধু হত্যার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত দেশের জনগনের মাঝে জনগণের সঞ্চয়ের জন্য নিরাপদ জায়গা হিসেবে গড়ে উঠেছিল ব্যাংকিং খাত। 

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের মধ্যে অন্যতম ছিল কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন। কারণ তিনি মনে করতেন কৃষির উন্নয়ন ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে না। বঙ্গবন্ধু কৃষকের উন্নয়নে ও দেশের অর্থনীতি বেগবান করার লক্ষ্যে ব্যাপক উদ্যোগ হাতে নিয়েছিলেন। দীর্ঘ ২৪ বছর পাকিস্তানি শাসন-শোষনে নিস্পেষিত এদেশের মানুষ উন্নয়নের স্বাদ পায়নি। বাংলার মানুষকে শোষণ করে পশ্চিম পাকিস্তানে সম্পদের পাহাড় গড়েছিল পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী। দীর্ঘদিন দুঃখ, দারিদ্র, অভাব, অনটনকে নিত্যসঙ্গী করে জীবন পার করতে হয়েছে বাংলার নিপীড়িত মানুষকে। বাংলার মানুষের দুঃখকষ্ট দুর্দশা গভীরভাবে উপলদ্ধি করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। শৈশব অবস্থা থেকেই নিপীড়িত মানুষের পক্ষে নিজেকে সর্বোতভাবে উৎসর্গ করার মানসিকতা নিয়ে বড় হয়েছেন। যখন যেখানে নিপীড়ন, বঞ্চনা, শোষণ, দুঃশাসনের সংবাদ পেয়েছেন সেখানেই ছুটে গেছেন এই মহান হৃদয়ের মানুষটি। নিপীড়িত, শোষিত, নির্যাতিত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাদের পক্ষে অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে সংগঠিত করেছেন, আন্দোলনের ডাক দিয়ে রাজপথে নেমেছেন। এদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুকে প্রতিটি আন্দোলন, সংগ্রামে, অধিকার আদায়ের ন্যায্য লড়াইয়ে সব সময় পাশে পেয়েছে। এভাবেই তিনি বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের নির্ভরযোগ্য এবং আদর্শ নেতায় পরিণত হয়েছিলেন। তার উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ১৯৭১ এ দীর্ঘ নয়মাস পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াই করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল এদেশের মানুষ। সেই লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিল বাংলার আবালবৃদ্ধবনিতা ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, মজুর, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-দারিদ্র, হিন্দু- মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ।

ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ কিংবা উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নয়, এদেশের মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় ঠাই নেওয়া সেই মানুষটির উদ্দাত্ত আহ্বান- এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রামÑ এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতা সংগ্রাম। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহÑ সবাইকে মুক্তির মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিল। বাংলার অবিসংবাদিত নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক এদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছিল। কেউ সেই ডাককে উপেক্ষা করতে পারেনি। অনেক রক্ত আর অশ্রুর নদী পেরিয়ে ৩০ লাখ তাজা প্রাণ, কয়েক লাখ মা-বোনের অমূল্য সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে ঠাঁই পেয়েছিল। স্বাধীন হওয়ার পর একটি দেশের জন্য করণীয় থাকে দুটি কাজÑ এর মধ্যে একটি হলো রাষ্ট্র গঠন, অপরটি জাতিগঠন। রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ায় সদ্য স্বাধীন দেশটির প্রতিষ্ঠানিক ভিত গড়ে ওঠে। অন্যদিকে জাতি গঠনের মধ্য দিয়ে স্বাধীন দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ ও সুসংহত জাতি হিসেবে গড়ে ওঠে। সুতরাং স্বাধীন দেশের নেতৃত্বের ওপর প্রধান ও প্রাথমিক দায়িত্বই হলো এ দুটো প্রক্রিয়ার সফল সূচনা করা। স্বাধীনতা পূরবর্তী বাংলাদেশের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত জটিল ও কঠিন। 

নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞের কারণে দেশ ছিল প্রায় সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। ভৌত অবকাঠামো ছিল বিপর্যস্ত। উপরন্তু ভারত ও ভুটান ছাড়া পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্র তখনো বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। সুতরাং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় দিক থেকেই বলতে গেলে রাষ্ট্র গঠন ও জাতি গঠন প্রক্রিয়া সূচিত করার উপযোগী পরিবেশ ছিল না। কিন্তু লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, দেশের সার্বিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি এ দুটি প্রক্রিয়ার সূচনা করার জন্য বঙ্গবন্ধু দেশের মাটিতে ফিরে আসার প্রথম থেকেই ভীষণভাবে সচেতন ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় দশ মাস পাকিস্তানি কারাগারে বন্দী থাকার পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি দেশে ফিরে এসেছিলেন। অন্ধকার থেকে সেদিন আলোর পথে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু যে ভাষণ দিয়েছিলেন তার মধ্যে ছিল নতুন দেশ পুনর্গঠনের নকশা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা।

বঙ্গবন্ধুর অনন্য প্রজ্ঞাসমৃদ্ধ নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ খুব দ্রুতই যুদ্ধ বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে বিদ্যমান ক্ষতসমূহ মুছে উন্নয়নের পথে চলতে শুরু করেছিল। যে দেশটিতে স্বাধীনতা অর্জনের পরপর কিছুই ছিল না উল্লেখ করার মতো। একটা বড় শূন্য দিয়ে নতুন দেশটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। ছিল না কোনো সংগঠিত সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, এমনকি বেসামরিক প্রশাসন চালানোর মতো উপযুক্ত অবকাঠামো। না ছিল সুসংগঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক, নিজস্ব মুদ্রা ব্যবস্থা। বরং এর বিপরীতে ছিল ক্ষুধার্ত কোটি মানুষের আর দেশজুড়ে ঘর-বাড়ি সম্পদহারা সর্বশান্ত, দুঃস্থ, বাস্তহারা মানুষের হাহাকার। আমেরিকা, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত। বিদেশ থেকে পর্যাপ্ত সাহায্য আসছিল না। ওই সময়ে বিশ্বব্যাংক আর কিছু পূর্ব ইউরোপীয় মিত্রদেশ যদি সাহায্য সহযোগিতা না করতো, তাহলে কী যে অবস্থা হতো সদ্য স্বাধীন দেশটির তা কল্পনা করতেও শিউরে উঠতে হয়। এরকম একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের হাল ধরেছিলেন বঙ্গবন্ধু শক্ত হাতে।

আজকের বাংলাদেশের যে সমৃদ্ধি, উন্নয়নের মহাসোপানে যে অভিযাত্রা তার সূচনা করেছিলেন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এদেশের মানুষের কথা তিনি ভাবতেন সব সময়। কীভাবে এদেশের মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে, উন্নত সমৃদ্ধ জীবনযাপন করতে পারবে সেই সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের নিষ্ঠুরতায় থমকে যায় মহান নেতার সেই স্বপ্ন।

গত পাঁচ দশকে নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ সম্মানজনক একটি পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ ধরে এগিয়ে চলেছেন তারই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার অসাধারণ বিচক্ষণতা, দেশকে ক্রমেই আরো সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়, দৃপ্ত সাহসী পদক্ষেপ; সর্বোপরি দেশের মানুষের জনগণের প্রতি অপরিসীম মায়া ও ভালোবাসা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সক্ষম করেছে। আজ বলতে দ্বিধা নেই, জাতির পিতার দেখানো পথ ধরে এগিয়ে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশ। পঞ্চাশ বছর আগেই বঙ্গবন্ধু উন্নয়নের যে নতুন চিন্তাধারার সূচনা করেছিলেন তা এখনও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তার অসাধারণ প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টি এবং দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আকুলতা প্রতিটি পদক্ষেপ ও কর্মকাণ্ডে বারবার ফুটে উঠেছে। আজকের বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদরা উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরাও বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন ভাবনার অসাধারণত্ব অকপটে স্বীকার করছেন।

এখনো আমরা আশেপাশে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়মের বিভিন্ন ধরনের নমুনা দেখতে পাই। যা আমাদের ভীষণভাবে বেদনার্ত এবং হতাশ করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। নিঃস্বার্থভাবে রাতদিন অক্লান্তভাবে কাজ করছেন। তার এই মহতী প্রচেষ্টাকে ম্লান করে দিতে এখনো তৎপর রয়েছে অনেকেই। বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রাকে কোনোভাবেই থামিয়ে দেয়া যাবে না। আরো অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে আমাদের। বঙ্গবন্ধুর উজ্জ্বল, অমলিন আদর্শকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশকে আরো উঁচু অবস্থানে অধিষ্ঠিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

স্মার্ট বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা আমাদের সবার লক্ষ্য এবং স্বপ্ন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাই স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে ধরা দেবে। শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন, সুষম সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার নতুন সংগ্রাম শুরু করতে হবে। পুঁজিবাদি সমাজব্যবস্থার মধ্যে ধনী-গরীবের মধ্যে ব্যবধান বাড়ে, ধনী শ্রেণী আরো বিত্তবৈভবের মালিক হয়। গরিব আরো গরীব হয়। স্মার্ট বাংলাদেশ মানে দারিদ্রমুক্ত শোষণ-বঞ্চনাহীন সুষ্ঠু অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। দারিদ্র দূরীকরণে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি সবাইকে কিছুটা বিপর্যস্ত করলেও সরকারের নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণের ফলে শোচনীয় পর্যায়ে যায়নি এখনো। আগামীতে সাধারণ মানুষ যাতে ভালোভাবে খেয়েপরে বাঁচতে পারে সে সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। সেখানেই হবে স্মার্ট বাংলাদেশের সার্থকতা।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তলাবিহীন ঝুঁড়ির আখ্যা পেয়েছিল বাংলাদেশ। অভাব, দুঃখ, দারিদ্র, মন্দ, খরা, বন্যা, অনাবৃষ্টি, মহামারী, ফসলহানি, ঝড়, সাইক্লোন ইত্যাদি যুগে যুগে হানা দিয়েছে বাংলার জনপদে। কিন্তু সাময়িকভাবে বিপর্যস্ত হলেও এদেশের মানুষ দমে যায়নি। হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। শত প্রতিকুলতা, দুর্ভোগ, দুর্যোগ মোকাবেলা করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলার কোটি কোটি মানুষ। যুদ্ধবিধ্বস্ত ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতির সদ্য স্বাধীনতা লাভকারী দেশটি চড়াই উৎরাই পেরিয়ে অবশেষে পেরিয়ে অবশেষে দীর্ঘদিনের পথ পরিক্রমার পর আজকে যে পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে তা গোটা এক দারুন বিষ্ময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অসাম্প্রদায়িক শোষণমুক্ত মুক্ত স্বাধীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশ পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়েছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার সেই অসাম্প্রদায়িক শোষণবঞ্চনামুক্ত সমাজ গঠনে সবাই নিজেদের সমর্থন ব্যক্ত করলেও বাস্তবে এখনো নানা প্রতিকুলতা রয়ে গেছে। অসাম্প্রদায়িক, শোষণ-বঞ্চনামুক্ত স্বাধীন সমাজ ব্যবস্থা, সুস্থ রাজনৈতিক ভাবনার বিকাশে সব দল সব পক্ষকে আন্তরিক হতে হবে। মুখে যা বলা হচ্ছে তা অন্তরেও লালন করতে হবে। কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হবে। বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা কোনোভাবেই ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। শত ষড়যন্ত্র, বাধা বিপত্তি প্রতিকুলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। ২০৪১ সালকে লক্ষ্য নির্ধারণ করে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার যে মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে তার বাস্তবায়ন ঘটবে ধাপে ধাপে। সবার সম্মিলিত, স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বাংলাদেশ ক্রমেই এগিয়ে যাবে অভিষ্ট লক্ষ্যের দিকে। স্মার্ট বাংলাদেশ ভাবনার বিকাশ ঘটবে দিনে দিনে।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার ও কলাম লেখক।

আজকালের খবর/আরইউ








সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ফল প্রকাশ
স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল ঢাবি
সিলেট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত
তিন হাজার বাংলাদেশি কর্মী নেবে ইউরোপের ৪ দেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যারা এরশাদকে ভালোবাসেন, তাদের মধ্যে কোনো বিভক্তি নাই: রওশন এরশাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
ফাঁস প্রশ্নে চাকরিরতদের তালিকা প্রকাশ করতে আইনি নোটিশ
আন্দোলনকারীরা ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলো সরকারকে
স্মারকলিপি দিতে বঙ্গভবনে ঢুকলেন কোটাবিরোধীদের প্রতিনিধি দল
২০১৮ সালে বিরক্ত হয়ে কোটা বাতিল করেছিলাম: প্রধানমন্ত্রী
কোটা না থাকলে বৈষম্য বাড়ে
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft